মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জে হাত বাড়ালেই মিলছে হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেনসিডিলসহ সকল প্রকার মাদক। আলীগঞ্জের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে আলিগঞ্জের প্রতিটি অলি-গলি ছেয়ে গেছে মাদকে। এতে করে মাদকের নিরাপদ ও সুরক্ষিত গোডাউন হিসেবে পরিচিতি পেয়েচে আলীগঞ্জ।
স্থানীয়দের তথ্য মতে, সরকারদলীয় প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ার পাশাপাশি পুলিশের কথিত সোর্স আয়নাল হক @ আইনু, রাসেল ওরফে সল্টু রাসেল ও আরমানের নিয়ন্ত্রণ করছে আলীগঞ্জের সিংহভাগ মাদক বাজার। আর মাদক বাজারে প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের সোর্স আইনু। তাদের রয়েছে প্রায় দুই ডজনেরও বেশী সেলসম্যান বা খুচরা বিক্রেতা। এছাড়াও বিচ্ছিন্ন ভাবে রয়েছে প্রায় শতাধিক খুচরা মাদক বিক্রেতা। প্রতিটি মাদক স্পট থেকে মাসোহারা নিয়ে তাদেরকে সর্ব প্রকার সহযোগিতা করে আসছে সোর্স আয়নাল হক আইনু।
তথ্য মতে, মাদক ব্যবসায়ী আয়নাল হক @ আইনুকে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করেছিল ফতুল্লা মডেল থানার তৎকালীন কর্মরত এ এসআই কামরুল হাসান। জেল থেকে বেরিয়ে হয়ে যায় পুলিশের সোর্স। যেকোনো মাদকব্যবসায়ী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে পরবর্তীতে তারা হয়ে যায় সোর্স। আর এই সোর্স পরিচয় দিব্যি গড়ে তোলে মাদকের সাম্রাজ্য। বর্তমানে পুলিশের সোর্স সিলমোহর লাগিয়ে আইনু চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা।
এদিকে কয়েকমাস পূর্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল সল্টু রাসেলের স্ত্রী কবিতা। জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও সল্টু রাসেলের সাথে মাদক বিক্রি শুরু করে কবিতা। বর্তমানে মাদক বিক্রির কৌশল পাল্টেছে এই মাদক ব্যাবসায়ী সল্টু রাসেল। মাদকের টাকায় বাড়ি কিনে ইতোমধ্যে সফল মাদক ব্যাবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে সে। সেই সাথে মাদক বিক্রির স্থানও পরিবর্তন করেছে। বর্তমানে সল্টু রাসেলের প্রধান সেলসম্যান হিসেবে রয়েছে রাজিব। আর এই রাজিবের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে প্রায় দেড় ডজনেরও বেশী সেলসম্যান। আইন-শৃংখলা বাহিনী এবং এলাকাবাসীর কঠোরতার মুখে আলীগঞ্জ ছাড়তে হয়েছিল সল্টু রাসেলকে। পরে সরকারদলীয় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে আবারো এলাকায় প্রবেশ করে অতিতের মতো নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা।
অপরদিকে আলীগঞ্জ এলাকার তারা মিয়ার ছেলে আরমান প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করছে মাদক। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আরমানের হয়ে প্রায় হাফ ডজন খানেক সেলসম্যান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মসজিদ গলি থেকে রেল লাইন পর্যন্ত বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান করে বিক্রি করছে নানা ধরনের মাদক।
সূত্র মতে, সোর্স আইনুর মাদক ব্যবসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে তার বায়েরা রাসেল। এছাড়া আলীগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতমরা হচ্ছে সল্টু রাসেল, আরমান এদের নিয়ন্ত্রণে আলীগঞ্জের রেললাইন, তিন রাস্তার মোড়, কাজীপাড়া, মেইনরোড, মসজিদ গলি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকার দলীয় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা এই সকল মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাদেরকে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে। মাদকের সুরক্ষিত গোডাউন বলে পরিচিত আলীগঞ্জ এলাকার তাই এ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।