বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- ফতুল্লার রেলষ্টেশন এলাকার অন্যতম সমস্যা হলো মাদক। যার ভয়াল থাবা থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছেনা যুব সমাজও। এ অবস্থায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
মাদকের নিষ্ঠুর যাত্রায় কেউ লাখ লাখ টাকার ব্যবসা ধ্বংস করে সর্বশান্ত হয়ে জড়িয়েছেন ভয়ংকর অপরাধ চক্রে। অনেক পরিবার তছনছও হয়ে গেছে।
এসব কারবারে সবচেয়ে বেশী আসক্তি দেখা গিয়েছে উঠতি বয়সের তরুন-তরুনীদের মাঝে। বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাজায় আসক্ত হয়ে পড়ছে তারা।
এদিকে মাদক পাচারকারীরা মাদক মওজুদের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে ফতুল্লার রেলস্টেশন এলাকা। ফতুল্লা রেল স্টেশন মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদে এ অঞ্চল হিসেবে মাদক মওজুদ ও ক্রয় বিক্রয় করে আসছে।
বিশেষ করে ফতুল্লা রেলস্টেশন প্লাটফর্মে, ফতুল্লা কাচাঁবাজার এলাকায় চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা।
নির্বিকার রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত মহল্লায় অভিনব কৌশলে সেবনকারীদের কাছে মরন নেশা হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছে।
একদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদাসিনতা অন্যদিকে একাধিক কর্মকর্তার সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিশেষ পেশার কতিপয় কর্তাবাবুরা। এলাকার সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় মাদকের বড় বড় চালান এনে নিরাপদে সরবারহ হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
ফতুল্লা রেল স্টেশন আশপাশসহ এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবার কারবার না হচ্ছে।
ফতুল্লা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- খোঁচ পাড়া এলাকার জরিনার ছেলে টুটুল অরিয়ন গ্রুপ বালুর মাঠ, খোঁচপাড়া, বেপারিপাড়া. পাইলট স্কুল মাঠ, কবরস্থান রোড, রেম্বো ডাইং মোড়সহ আশপাশ এলাকা। মামা লিটন ভাগিনা টুটুল নিজেরা আড়ালে থেকে কিশোর বাহিনী তৈরি করে ফোনে অর্ডার পেলেই তাদের বাহিনী দিয়ে অভিনব কৌশলে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয় মাদক।
ফতুল্লা রেল স্টেশন এলাকার সালামের ছেলে শাহীন প্রকাশ্যে ফতুল্লা রেলস্টেশন প্লাটফর্মের সামনে।
আলাউদ্দিনের ছেলে জাবেদ ফতুল্লা রেল স্টেশনের পিছনের বালুর মাঠে।
আল্পনা ব্যাংক কলোনি, রেলস্টেশন পুরাতন বাজারের আশেপাশে ঘুরে ঘুরে মাদক বিক্রি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, এক সময় ফতুল্লা থানা পুলিশ ঢাকডোল বাজিয়ে ওপেন হাউজডে পালন করা হতো। সেখানে বিভিন্ন এলাকা হতে আগত সাধারন মানুষগুলো তাদের সমস্যাগুলো উপস্থাপন করতো এবং তা সমাধানে পুলিশ ব্যাপকভাবে কাজ করতো। কিন্তু প্রায় ২/৩ বছর যাবত থানায় ওপেন হাউজডে না হওয়ার ফলে প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতে মাদকের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ প্রবনতা বেড়েছে মাত্রাতিরিক্তহারে।
পুলিশের অভিযান টালমাটাল থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা নির্ভয়ে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে। তবে এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবসায়ের নেপথ্যের লোকেরা ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে যায়।
মাদকের চালানগুলো গ্রহন করে ভাগবন্টন করে নেয় মাদক ব্যবসায়ীরা রাত সাড়ে সাতটা থেকে ৯টার মধ্যে প্রতিটা মহল্লায় মাদক পৌঁছে দেয়, কারণ এ সময় পুলিশ ডিউটি পরিবর্তন করে।
এ সময় রাস্তায় পুলিশের কোনো গাড়ি থাকে না। তার কারণে নির্ভয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক পৌঁছে দিতে কোনো বাধা অতিক্রম করে না বলে জানায় এলাকাবাসী।
এতে করে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে ব্যাপকভাবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোক দেখানো অভিযানে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে পুরোদমে আবার শুরু হচ্ছে মাদক পাচার ও বিক্রি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রেলষ্টেশনের প্লাটফর্মে প্রতিদিন যে পরিমানে গাজী বিক্রি করছে তা অকল্পনীয়।
তারা আরও বলেন, যে কিশোর গ্যাংয়ের উদ্ভব হয়েছে প্রতিটি এলাকায়- তার নেপথ্যের প্রধান কারণই হল মাদকের সহজলভ্যতা।
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক শেল্টারে কিশোরদের দিয়ে মাদক ব্যবসা করাচ্ছে বলেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে কিশোর গ্যাংয়ের লড়াই হচ্ছে, খুনের মতো ঘটনা ঘটছে।
এদিকে মাদক ও কিশোগ্যাং এর বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান চালালেও রহস্যজনক কারনে অধরা থেকে যাচ্ছে মূল হোতারা।