বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::-নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা, নারীদের শ্লীলতাহানি, কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী মো. আলম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৫ জুন সকাল ১০টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানাধীন শাহী মহল্লার মায়ের দোয়া কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন তাদের পৈত্রিক ও বসতবাড়িতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা, লোহার রড, ছেনি ও ধারালো রামদা নিয়ে অভিযুক্তরা বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়িতে থাকা নারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শ্লীলতাহানি করে। পরিবারের সদস্য সাজেলের স্ত্রী নিশি (২২) এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মো. শাহজাহান, মো. আলী আরশাদ, নয়ন, রিপন, মো. সোহাগ, অনন্যাসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে রামদার কোপে গুরুতর আহত হন সিহাব (২১)। এছাড়া রোকসানা আক্তার (৪৫), নিশি (২২), সায়েন্না আক্তার (৩৮) ও রাজন (৩৮) গুরুতর আহত হন। তাদের মাথা, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং কয়েকটি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে মো. শাহজাহান (৫৬), মো. আলী আরশাদ (৫৭), নয়ন (৪০), রিপন (৪৫), মো. সোহাগ (৪০), অনন্যা (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
মো. আলম বলেন, এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার নম্বর ২০, তারিখ ৬ জুন ২০২৬। কিন্তু মামলার আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে তাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।