বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন থানা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির জেলা সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক রনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে আড়াইহাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগে একটি ফোনালাপের অডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া অডিওতে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানার সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির কথোপকথন শোনা যায়। ওই কথোপকথনে কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক লাখ টাকা দাবি করার কথা শোনা গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন বলেও অডিওটি সম্পর্কে দাবি করা হচ্ছে।
আড়াইহাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অর্থ দাবির বিষয়টি সামনে আসার পর সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা।
অভিযোগকারীদের দাবি, কমিটিতে পদ পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক রনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটি গঠন সাধারণত সাংগঠনিক যোগ্যতা, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার ভিত্তিতে হওয়ার কথা। সেখানে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও সাংগঠনিক আস্থা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হওয়া স্বাভাবিক।
এদিকে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন অর্থের বিনিময়ে কমিটি দেওয়া হয় এটা খুব দুঃখজনক বিষয়, বর্তমানে আওয়ামী লীগের দুঃসময় চলছে, এই দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে হলে সবার মিলিত প্রচেষ্টা দরকার, আর যারা টাকার বিনিময়ে কমিটি দিচ্ছেন তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করার জোর দাবি জানান।
এ ঘটনায় ফাঁস হওয়া অডিওটির সত্যতা যাচাই, কথোপকথনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং অর্থ দাবির অভিযোগের যথাযথ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্য নেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক রনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।