রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় ফের আলোচনায় এসেছে হিমেল নামের এক ব্যক্তি। হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবারও প্রকাশ্যে এসে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বিশেষ করে আলীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন কামারপট্টি এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রির স্পট পরিচালনার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে মাদক কারবার পরিচালনা করলেও বর্তমানে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে হিমেল তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে ছবি তুলে সেই পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে হিমেল মাদক কারবার পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকে মাসোহারা দিয়ে কথিত মাদক স্পট পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, আলীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন কামারপট্টি এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদকদ্রব্য বেচাকেনা চলছে। একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হিমেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততা থাকলে তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বলে পরিচিত একজন ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যে মাদক কারবার পরিচালনা করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না এবং কথিত মাদক স্পটগুলোর পেছনে কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না।
এলাকাবাসীর দাবি, হিমেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে আলীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন কামারপট্টি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে মাদক কারবারের নেপথ্যে কারও আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হতে পারে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি, মাদক ব্যবসায়ের সাথে যে কেউ জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সে যে দলের হোক না কেন আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে