রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- কুতুবপুর ইউনিয়নের চিতাশাল এলাকায় যুবলীগ নেতা পরিচয়ে দাঁত ভাঙা সেলিমের শেল্টারে পরিচালিত হচ্ছে জুয়া। এ জুয়ার আসরটি পরিচালনা করছে চায়ের দোকানদার হাসান।
সূত্র থেকে পাওয়া, দলীয় কোন পদপদবী না থাকলেও যুবলীগ নামধারী নেতা দাঁত ভাঙা সেলিমের নেতৃত্বে চায়ের দোকানদার হাসানের পরিচালনায় কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যই চলছে মাদক ও জুয়ার বোর্ড। এলাকার উঠতি বয়সের যুবক, আলোচিত জুয়াড়িরা এখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা জুয়াড়িরা এখানে লাখ লাখ টাকার হাত বদল করছে এবং প্রতিদিন এ চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেকেই টাকা খুইয়ে হচ্ছেন নিঃস্ব। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা সংঘবদ্ধ চক্র ও কয়েকজন পুলিশের সোর্স মিলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চালাচ্ছে নিষিদ্ধ জুয়ার আসর।
স্থানীয়রা জানান, সেলিমের অফিসের পেছনে রয়েছে একটি পরিত্যক্ত জায়গা সেখানে দীর্ঘদিন যাবত রাতদিন চলেছে জুয়া। আর এই জুয়ার আসরটিকে সর্ব ধরনের সেল্টার দিয়ে আসছে যুবলীগ নেতা পরিচয় দানকারী সেলিম। আশেপাশে এত বাড়িঘর থাকলেও কোন কর্ণপাত না করে প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে চলাচ্ছে জুয়া।
একাধিকবার এটি বন্ধের পদক্ষেপ নিতে গেলে গেলে প্রদান করে হুমকি-ধুমকি ভয়ে কোন কিছু করতে পারছিনা। পুলিশকে এ বিষয়টি একাধিকবার জানালেও এটি বন্ধে কারও কোনো ভূমিকা লক্ষ করা যায়নি। তবে অভিযোগ রয়েছে, একটি মহলকে ম্যানেজ করেই চালাচ্ছে এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জুয়া আসরকে ঘিরে বিভিন্ন মাদকের সহজ প্রাপ্যতা হওয়ায় দিন দিন এলাকার উঠতি যুবক ও ছাত্র সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। কোনো অবস্থাতেই তাদের সন্তানদের এই মরণ নেশার থেকে দূরে রাখতে পারছে না। অনেক সময় অধিকাংশ পরিবারে বিরাজ করছে অশান্তি। পরিবার থেকে অর্থ না পাওয়ায় জুয়া বোর্ডের দিকে ঝুঁকছে আর জুয়াড়িদের নির্বিঘ্নে খেলায় সহযোগিতা করতে বোর্ড পরিচালনাকারী চক্র এদেরকে ব্যবহার করছে। বিভিন্ন খাবার, মাদক সরবরাহ, জুয়াড়িদের নির্দিষ্ট আসরে পৌঁচ্ছে দেওয়া, পাহারাদার হিসাবে দিন-রাত বসিয়ে রাখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ্যে অনইচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, বছরের পর বছর এভাবে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার জুয়ার বোর্ড কিভাবে পরিচালনা করে তারা। থানা পুলিশ কি করে? আর এই বিষয়টি সবাই কমবেশি অবগত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, আমাদের চিতাশাল এলাকাবাসীকে ভয়ানক মাদক ও জুয়ার হাত থেকে মুক্তি দিতে, যারা এইসব অপরাধের নেতৃত্ব ও পরিচালনা করে তাদেরকে অচিরেই গ্রেপ্তারের দাবী জানান। পাশাপাশি চিতাশাল এলাকার অপরাধ নির্মূলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কমনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে সেলিম রেজার মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি নুরে আযম জানান, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে জুয়া ও মাদকের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময় বেশি সোচ্চার।