মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ | ফতুল্লা প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা দাপা শাহজাহান রোলিং মিল সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২২ পিস ইয়াবাসহ শাহাজুল গ্রেপ্তার হলেও তার ভাই মেহেদীকে ঘিরে নতুন করে উঠেছে মাদক সরবরাহের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, গার্মেন্টসে চাকরির আড়ালে মেহেদী ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত এবং মোটরসাইকেলে বিভিন্ন এলাকায় মাদক পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের অভিযানে গত ২ সেপ্টেম্বর শাহাজুল ২২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহাজুল গ্রেপ্তার হলেও মাদক সরবরাহের নেপথ্যে থাকা মেহেদী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দাপা শাহজাহান রোলিং মিল, ইয়াদ আলী মসজিদ, খাঁ বাড়ি ও রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় মেহেদীকে নিয়মিত চলাফেরা করতে দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, উইজডম গার্মেন্টসে চাকরির পরিচয়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে মেহেদী মাদক সরবরাহ করে থাকতে পারেন। মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গার্মেন্টসে চাকরি করলেও মেহেদীর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। তাদের দাবি, চাকরিকে স্বাভাবিক পেশাগত পরিচয় হিসেবে সামনে রেখে মাদক সরবরাহের কাজ চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মেহেদীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, শাহাজুল ও মেহেদীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পুলিশের সোর্স কিংবা কিছু সদস্যকে ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—২২ পিস ইয়াবাসহ শাহাজুল গ্রেপ্তার হলেও একই পরিবারের মাদক সরবরাহের অভিযোগে আলোচিত মেহেদীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? তাদের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান শুধু খুচরা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা বা সরবরাহের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি পুলিশের সোর্স বা অন্য কোনো পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা করার চেষ্টা করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”
এলাকাবাসী মেহেদীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।