সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন
ফতুল্লা প্রতিনিধি::- নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শাজাহান রোলিং মিল সংলগ্ন এলাকায় গার্মেন্টসে চাকরির আড়ালে মেহেদী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে জমজমাট মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের নজর এড়াতে গার্মেন্টসে চাকরিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করলেও এর পেছনে মাদক ব্যবসাই তার মূল কর্মকাণ্ড।
অভিযোগ রয়েছে, মেহেদী খাঁ বাড়ি এলাকার কথিত মাদক কারবারি মাইচ্চা শাহজাহানের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মেহেদী ইয়াবার ডিলার হিসেবে এলাকায় পরিচিত। টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের মাধ্যমে মাদক পরিবহন ও সরবরাহ করে থাকে মেহেদী। গার্মেন্টসে চাকরি করার বিষয়টিকে ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশের নজরের বাইরে থাকার কৌশল হিসেবে—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন এলাকাবাসী।
পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেহেদীর পরিবারের একাধিক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
সম্প্রতি মাদকসহ মেহেদীর ভাই শাহাজুলকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। তবে শাহাজুল গ্রেপ্তার হলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এলাকায় মাদক ব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।
স্থানীয়দের মতে, শাজাহান রোলিং মিল সংলগ্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার নয়, মাদকের সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
মেহেদী গ্রেপ্তার হলে নিয়ন্ত্রণে আসবে মাদক—দাবি
স্থানীয়দেরসচেতন এলাকাবাসীর দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের আওতা আরও বাড়িয়ে মেহেদীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মেহেদীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলে শাজাহান রোলিং মিল এলাকার মাদক বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মাদক ব্যবসা বা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।