শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক |
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা রসুলপুর এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কথিত ভূমিদস্যু মহিদুল (পিতা: আব্দুল কুদ্দুস)—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর দাবি, অতীতে কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মিরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মহিদুল বিভিন্ন সময়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন নীরব থাকলেও বর্তমানে তিনি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিনি ফতুল্লা থানা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে থেকে পুনরায় তার আগের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও অভিযুক্ত বিএনপি নেতার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, মহিদুলের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা চেষ্টা মামলাসহ রসুলপুর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা কাদির হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী মহিদুল রয়েছে। তবে এসব মামলায় তার বর্তমান অবস্থান ও অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান-এর সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যেতেন মহিদুল। বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তিনি নতুন ছত্রছায়ায় একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি—প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় ও অর্থের প্রভাবের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মাহিদুল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা চেষ্টা মামলার জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাকে ফাঁসানো হয়েছে, সাবেক এমপি শামীম ওসমানের সাথে ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি এ আই দিয়ে তৈরি করা।একটি মহল আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে এসব মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “মাহিদুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। হত্যা চেষ্টা মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়—প্রমাণ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া বদলালেও মহিদুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি, বরং নতুনভাবে বিস্তার লাভ করছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা