রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মহিদুল ইসলামকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনমত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি নিজের অবস্থান পাল্টালেও বদলাননি তার কর্মকৌশল; বরং নতুন ছায়ায় থেকে পুরনো প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে সক্রিয় থাকা মহিদুল, কুতুবপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী মীর হোসেন মিরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। শুধু তাই নয়, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শাহ নিজামের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের সঙ্গে তার একাধিক ছবি ও উপস্থিতির প্রমাণ স্থানীয়দের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় মিরু বাহিনীর সঙ্গে থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন মহিদুল। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে তখনও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
বর্তমানে দৃশ্যপট বদলেছে। মহিদুল এখন ফতুল্লা থানা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে নতুন করে আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নেতার সঙ্গে তার একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “দল পাল্টালেও তার চরিত্র পাল্টায়নি শুধু ছায়াটা বদলেছে।”আইনি দিক থেকেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র হত্যাচেষ্টা মামলার ১৮ নম্বর আসামি হিসেবে তার নাম রয়েছে। এছাড়া কুতুবপুরের প্রবীণ নেতা কাদির হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি হিসেবেও অভিযুক্ত তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। “প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না” এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকে।
তবে মহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। মীর হোসেন মিরু কিংবা শাহ নিজামের সঙ্গে আমার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।”
এদিকে, অতীতে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তার এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়—অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য উদঘাটন জরুরি বলে তারা মনে করছেন।