বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
কুতুবপুরের বাবুল মেম্বার ও মাসুদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:- নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা শাহীবাজার এলাকায় টাকা আত্মসাৎ, বাড়ির দলিলপত্র জিম্মি রাখা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল মিয়া ও মাসুদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী রাবেয়া আক্তার জানান, তার ছেলে মোঃ সুমন মালয়েশিয়ায় বসবাসকালে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। এ সময় পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুবাদে মাসুদ তাদের আশ্বস্ত করেন যে, তিনি মালয়েশিয়া থেকে সুমনকে ছাড়িয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। সেই আশ্বাসে তার কাছে নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘ দুই মাস পার হয়ে গেলেও সুমনকে দেশে ফেরানোর কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং পরে মালয়েশিয়া থেকে সুমন ফোন করে জানান, তাকে মুক্ত করার বিষয়ে কেউ কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। এরপর টাকা ফেরত চাইলে মাসুদ তা অস্বীকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে ২ লাখ টাকার পরিবর্তে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকা ও বাড়ির দলিলপত্র আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ২২ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মাসুদ তাকে ফোন করে জানান যে, তার কাছে থাকা একটি দলিল ও বাকি ৭ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। পরে তাকে পাগলা শাহীবাজার এলাকায় অবস্থিত ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার বাবুল মিয়ার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে দলিল ফেরত দিলেও টাকা না দেওয়ায় তিনি পাওনা টাকা চাইলে মেম্বার বাবুল মিয়া ও মাসুদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,”আমার কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি। মারধর বা হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যদি কেউ অভিযোগ করে থাকে, আইন অনুযায়ী তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে মাসুদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি
ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মনির জানান,”ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার তাদের অর্থ ফেরত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।