বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরায় প্রাইভেটকার থেকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় ফতুল্লার সাজ্জাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ, চালক সাঈদ অধরা
নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন সময়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হলেও কথিত শীর্ষ ফেনসিডিল ব্যবসায়ী সাজ্জাদ ওরফে জমিদার সাজ্জাদ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে ফেনসিডিল সরবরাহের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লায় ফেনসিডিলের ডিলার হিসেবে সাজ্জাদ ওরফে জমিদার সাজ্জাদের পরিচিতি রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে কৌশলে ফেনসিডিল ও গাঁজা সংগ্রহ করে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসা পরিচালনায় তিনি বিভিন্ন সহযোগী ও মধ্যস্থতাকারী ব্যবহার করেন।
অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার বাটারা থানা পুলিশের অভিযানে একটি প্রাইভেটকার থেকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক সাঈদসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাঈদ কথিতভাবে সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনায় বাটারা থানায় অজ্ঞাতনামা দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রাইভেটকার থেকে ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া এবং সাজ্জাদের বিরুদ্ধে মামলা না করার জন্য আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা প্রাইভেটকারের মালিকের সঙ্গে এ ধরনের লেনদেনের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, প্রাইভেটকার চালক সাঈদ এখনো গ্রেপ্তার হননি বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। গ্রেপ্তার হলে মূল ঘটনা উদযাপন হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাজ্জাদ অরুফে জমিদার সাজ্জাদ ২০১৭ সালে ফেনসিডিলসহ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ঢাকায় র্যাবের হাতেও গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে গ্রেপ্তারের পরও মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং বিভিন্ন কৌশলে এবং কথিত প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদকের কারবার পরিচালনা করছেন তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও মূল সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের দাবি, সাজ্জাদ অরুফে জমিদার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলেও কথিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।