রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

ফতুল্লা লঞ্চঘাটে দুদকের অভিযানের পরেও কমছেনা যাত্রী হয়রানি

সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- ফতুল্লা মডেল থানা হতে মাত্র ৫ শত গজ দূরে ফতুল্লার ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাটটি। আর এই লঞ্চঘাটের ইজারাদারের খামখেয়ালী অতিরিক্ত টোল আদায়ের শিকার ও রোসানলে পরতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত দক্ষিনাঞ্চলের লঞ্চ ভ্রমনের যাত্রীদের। এ যেন দেখার কেউ নেই, প্রশাসন এর নাকের ডগাই ঘাট ইজারাদারেরা রামরাজ্যত্ব চালাচ্ছে বলে দাবী যাত্রী সাধারনের। আর এই ঘাট মালিকরা কতিপয় কিছু বিশেষ পেশার লোক এবং প্রশাসনের কিছু লোকদের মাসিক মাশোয়ারা দিয়েই তারা ঘাট পরিচালানা করে আসছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায়।

এদিকে গত (২৭ ডিসেম্বর)ফতুল্লা লঞ্চঘাটে যাত্রী হয়রানির অভিযোগে দুদক’র এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা লঞ্চঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে বিনা রশিদে প্রবেশ ফি, লাগেজ ফি ও অন্যান্য ফি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক টিম লঞ্চঘাট ও বিআইডব্লিউটিএ’র অফিস পরিদর্শন করে।

লঞ্চঘাটের কার্যক্রম বিকেল ৪টা থেকে আরম্ভ হয় বিধায় অভিযানকালে বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের রয়েছে নানান অভিযোগ তারা ঘাটের লোকদের কাছে এক পর্যায়ে জিম্মি। রাঙ্গাবালী থেকে আসা যাত্রী আবুল হেসোন (৫৫) জানান, আমি একটি বস্তায় লেপ তোষক এবং আরেকটি বস্তায় ব্যবহৃত কাপড় চোপড় নিয়ে আসি ,আমার কাছে ৪শ টাকা চাওয়া হয় পরে অনুনয় বিনয় করে ১৮০টাকা দিয়ে মালমাল নিয়ে ঘাট থেকে সড়কে উঠি।

আমতলী থেকে আসা নাজমা বেগম (৩৫) জানান, আমি একটি রাজহাঁস ও একটি মুরগী আনি তারা আমার কাছে ২০০ টাকা দাবি করে আমি তাদেরকে ৫০ টাকা দিতে চাইলে গেটে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন আমার হাঁস-মুরগি জোর করে ছিনিয়ে নেয় এবং বলে ২০০ টাকা না দিলে হাঁস-মুরগি দেওয়া হবে না। এমনকি গেটে থাকা লোকজন আমার উপর খারাপ আচরণ করে। পরে আমি তাদেরকে ১৫০ টাকা দিয়ে হাঁস মুরগি নিয়ে আসি। এমনি করে প্রতিদিন তারা জোরপূর্বক মানুষকে হয়রানি করছে।

অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে ফতুল্লা লঞ্চঘাটের ইজারাদার মোঃ রিপন অভিযোগ অস্বিকার করেন। মোঃ রিপনের দাবী কুচক্রিমহল ঘাটের ইজারার ডাক না পেয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌস জানান, ফতুল্লা লঞ্চঘাটে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত টোল আদায় বিষয়টি আমরা জানি না।

অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের  বিষয়টি আমরা শুনেছি। আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নিউজটি শেয়ার করুন...


© 2022 Sangbadnarayanganj.com - All rights reserved
Design & Developed by POPULAR HOST BD