বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন
ফতুল্লা প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম এলাকায় চায়ের দোকানের আড়ালে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে দুই সহোদর রুনি ও রানার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে মাদক বেচাকেনা পরিচালনা করে আসছেন। এ ব্যবসার পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, রেলস্টেশনের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে প্রকাশ্যে মাদকের বেচাকেনা চললেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্ল্যাটফর্ম এলাকায় মাদক কেনাবেচার কারণে স্টেশনে আসা সাধারণ যাত্রী, নারী ও শিশুদের নানা ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বিভিন্ন সময়ে ফতুল্লা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশের এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়। চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে চলে মাদক বেচাকেনা—এমন অভিযোগ থাকলেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রেলস্টেশন এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরাও মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রুনি ও রানার মাদক ব্যবসার পেছনে বিএনপির নাম ব্যবহারকারী কিছু ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য কোনো দলিল বা প্রমাণ স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দেখানো হয়নি।
এ বিষয়ে বিএনপির এক প্রবীণ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। অথচ এখন অনেকে বড় নেতা হয়ে গেছেন, আর তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে যদি মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক ব্যবসায়ী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন। প্রশাসনের কাছে আমার জোর দাবি—অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
সচেতন মহলের মতে, রেলস্টেশনের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় মাদক ব্যবসার বিষয়ে অভিযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু কথায় নয়—ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়িয়ে মাদক বেচাকেনার অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগে যাদের নাম আসছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অভিযোগ সত্য হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।