রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও ফতুল্লা থানা এলাকায় মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পুলিশের অভিযানে মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগী বা সেলসম্যান গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন পর নতুন লোকের মাধ্যমে পুনরায় মাদক সরবরাহ শুরু হয়। ফলে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালিত হলেও মাদকের মূল সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ফতুল্লা রেলস্টেশন, ইয়াদ আলী মসজিদ ও ব্যাংক কলোনি আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদ ওরফে জমিদার সাজ্জাদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাজ্জাদ বর্তমানে আত্মগোপনে থেকে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন জেলা ও সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবা সংগ্রহ করে ফতুল্লার বিভিন্ন মাদক বিক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সাজ্জাদ ওরফে জমিদার সাজ্জাদকে ফেনসিডিলসহ তার সহযোগীর সঙ্গে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার হয়। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বর্তমানে কৌশল পরিবর্তন করে সরাসরি প্রকাশ্যে না থেকে সহযোগীদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন সাজ্জাদ।
এলাকাবাসীর দাবি, মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনা হোক
ফতুল্লা রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাদকের মূল সরবরাহকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই মাদক ব্যবসা নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের সরবরাহব্যবস্থা, সহযোগী নেটওয়ার্ক ও অর্থের উৎস শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) [ওসির নাম] বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী আত্মগোপনে থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য থাকলে পুলিশকে জানালে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
[
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চললেও ফতুল্লা থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহের অভিযোগ অব্যাহত থাকায় কার্যকর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গ্রেপ্তার হওয়া খুচরা বিক্রেতাদের স্থানে নতুন লোক যুক্ত যুক্ত করে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে তারা।
এখন প্রশ্ন হলো—ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে শুধু মাঠপর্যায়ের বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করা হবে, নাকি মাদকের মূল সরবরাহকারী ও নেপথ্যের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে মাদক ব্যবসা কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।