বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চলে কিশোর গ্যাং গ্রুপ, কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হচ্ছে একের পর এক

সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- ফতুল্লায় টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে মাসুদ নামের যুবক নিহত হয়। গত (২৪ জুলাই) শনিবার পাগলা নয়ামাটি লাবনী ফুড ফ্যাক্টরির সামনে দিনদুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ ফতুল্লার পাগলা নয়ামাটি তাজুরমাঠ সংলগ্ন রুহুল আমিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও রফিকুল ইসলামের ছেলে।

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫-২০ জন কিশোর সন্ত্রাসী এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। তাদের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। সোহেল এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। এই গ্যাং এর শেল্টারে রয়েছেন কথিত যুবলীগ নেতা পরিচয় দান কারী খান মো: গেন্দু।

সূত্র থেকে জানাযায়, গেন্দু ইন্টরনেট ব্যবসার নাম করে ৫০/৬০ জন কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত তাদেরকে শেল্টার দিয়ে আসছে। মুলত তারা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা সাথে জড়িত। এলাকার কথিত যুবলীগ নেতার শেল্টারে থাকায় অনেকে ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায়না। ঘটনার পর জানাযায় গ্যাংটি আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরেই এই হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকান্ডের ঘটনার পর এই গ্যাংটির বিষয়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে দায়ী করছেন এলাকার সাধারন জনগন।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাযায়, মূলত কিশোর গ্যাং লিডার সোহেল বৈরাগী বাড়ি এলাকার বসবাস করে। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বিপি রাজিবের জন্য ওই এলাকায় তেমন সুবিধা করতে না পারলেও বিপি রাজীব হত্যার পর বৈরাগী বাড়ি এলাকা সহ আশেপাশের এলাকায় নিয়ন্ত্রন নেয় কিশোরগ্যাং লিডার সোহেল।

হঠাৎ করেই কথিত যুবলীগ নেতা গেন্দুর অতি ঘনিষ্ঠ ছোট ভাই পরিচয় দানকারী রাকিব এর সাথে যোগাযোগ হয় কিশোর গ্যাং লিডার সোহেলের। তার পরেই চলে আসে গেন্দুর শেল্টারে। তার শেল্টারে থেকে বিভিন্ন অপকর্ম অপরাধ সংঘটিত করে এই গ্রুপটি। কিশোর গ্যাং এর প্রভাব পড়তে থাকে এলাকায়। তারা এলাকায় মাদক ব্যবসা চুরি-ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে। অনেকেই তাদের ভয়ে কোনো কর্ণপাত করতে সাহস পায় না। কারণ তাদের পিছনে রয়েছে কথিত যুবলীগ নেতা গেন্দুর শেল্টার। তা না হলে দিন দুপুরে একটি যুবককে কুপিয়ে কিভাবে হত্যা করে। আজ তাদের শেল্টারের কারণেই একটি যুবককে অকালে প্রাণ হারাতে হলো। খালি হল মায়ের বুক।

নিহতের ছোট ভাই জুম্মন জানায়, আমার ভাই আজ রাকিবের কারনেই মরেছে। রাকিব যদি কিশোর গ্যাং লিডার সোহেলকে এই এলাকায় না নিয়ে আসতো তাহলে আমার ভাই আজ মরতোনা। গেন্দু ভাইয়ের অতি ঘনিষ্ঠ ছোট ভাই পরিচয়ে রাকিব সোহেলকে ইে এলাকায় নিয়ে এসেছে। সামন্য একটু ঝগরায় তারা আমার ভাইকে এমন ভাবে দিনদুপুরে হত্যা করলো। আমি এদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি।

কিশোর গ্যাং লিডার সোহেলের শেল্টারের বিষয়ে জানতে গেন্দুকে মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, এলাকার বড় ভাই হিসেবে আমাকে সালাম দিত। আমার ইন্টারনেট ব্যবসার কর্মচারী রাকিবের বন্ধু ছিল। সোহেলকে তেমন ভাবে আমি চিনিনা।

উল্লেখ্য, গত (২৪ জুলাই) শনিবার পাগলা নয়ামাটি লাবনী ফুড ফ্যাক্টরির সামনে দিনদুপুরে টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আহত হয় মাসুদ নামের এক যুবক। ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...


© 2022 Sangbadnarayanganj.com - All rights reserved
Design & Developed by POPULAR HOST BD