সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

পাগলায় রাতভর ট্রাক থেকে মালামাল চুরি, নীরবতায় পুলিশ

সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- ফতুল্লার পাগলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী বিভিন্ন অপরাধী সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের মূলহোতা সুমন। সুমনের সিন্ডিকেটের সদস্যরা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় ওইসব চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন অপকর্ম প্রকাশ্যে চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা এলাকার জনমনে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধে উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলার তালতলা থেকে শুরু করে দাপা মসজিদ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ওইসব দোকানি ও সিন্ডিকেট সদস্যরা স্বল্প বেতন কিংবা কমিশনে স্থানীয় মাদকসেবী, বখাটে যুবক ও ছিচকে চোরদের কাজে লাগিয়ে এবং তাদের ব্যবহার করে রাতে চলন্ত ট্রাক থেকে রড, সিমেন্ট, চালসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। এতে করে ট্রাকচালকরা নানানভাবে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। চালকদের দিতে হচ্ছে জরিমানা। এমনকি তাদের কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছে টাকাসহ মূল্যবান মালামাল।

এদিকে পাগলা তালতলা এলাকায় চোর সিন্ডিকেটের হোতা সুমনের রয়েছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে কালু। সুমনের পালিত চোরদের মাধ্যমে পাগলা তালতলা এলাকায় রাতভর চলন্ত ট্রাকে রড, সিমেন্ট, চাল-ডাল সহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী তেরপাল কেটে নিয়ে যায়। রাতভর পুলিশ রাস্তায় থাকলেও তাদেরকে তোয়াক্কা না করে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে । এমনকি কিছু পুলিশ সদস্যের সাথে সুমনের সখ্যতা রয়েছে। এটিকে পুঁজি করেই সুমন বুক ফুলিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে চোর সিন্ডিকেট।

বিভিন্ন বাসা বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকান-পাট, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন প্রকার লোহার মালামাল, টিন, স্টিল, তামা, পেপার, বই, এল্যুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও টায়ার, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য চুরি করিয়ে তা কম দামে ক্রয় করে বিশাল মজুদ গড়ে তুলে দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্ভর ফতুল্লাঞ্চলের ভাঙারি ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন টনকে টন বিভিন্ন মালামাল ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের ব্যবহার করে এ ভাঙারি ব্যবসাটি খুবই লাভজনক বিধায় ফতুল্লা

এ পেশায় ফতুল্লা এলাকার প্রায় শতাধিক ভাঙারি দোকানের সাথে প্রায় দুই সহস্রাধিক শিশু-কিশোর এবং নারী জড়িত। এছাড়া রয়েছে এ অঞ্চলে প্রায় ৩০টি ভাঙারি মালামাল ভাঙার কারখানা। এদের মূলত সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, এ ধরনের অনিয়মগুলো একদিনে সৃস্টি হয়নি। যতো দ্রুত সম্ভব সকল প্রকার অনিয়ম-অপরাধ দমনসহ অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি সিন্ডিকেট সদস্যদের চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন...


© 2022 Sangbadnarayanganj.com - All rights reserved
Design & Developed by POPULAR HOST BD