বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ফতুল্লা রেলস্টেশনে পুলিশের অভিযানে চুনোপুটি গ্রেপ্তার, ধরাছোঁয়ার বাইরে রানা-রনি? ফতুল্লা রেলস্টেশনে চায়ের দোকালের আড়ালে দুই ভাই রনি ও রানর  মাদক ব্যবসা  আলীগঞ্জে ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে ‘শান্তর মাদকের হাট’ ফতুল্লায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ অস্ত্রধারী, বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ২ আলীগঞ্জে একাব্বর মাতবর ফাউন্ডেশন (আবু বাড়ি) শুভ উদ্বোধন, আব্দুল ওয়াহেদ সভাপতি ও মো. সাখাওয়াত কুতুবপুরের বাবুল মেম্বার ও মাসুদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু সিদ্ধিরগঞ্জে ট্রাক চাপায় ছাত্রদল নেতা ও যুবদল নেতা নিহত ফতুল্লায় সন্ত্রাসী শাহজাহান ও আলী আরশাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন সিদ্ধিরগঞ্জে ১৩ বছরের মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি

ফতুল্লা রেলস্টেশনে পুলিশের অভিযানে চুনোপুটি গ্রেপ্তার, ধরাছোঁয়ার বাইরে রানা-রনি?

ফতুল্লা প্রতিনিধি: ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী পুলিশের অভিযানে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও এলাকায় কথিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী দুই সহোদর রানা ও রনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের নিয়ন্ত্রণে ফতুল্লা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে মাদক বেচাকেনা পরিচালিত হচ্ছে।

গত সোমবার ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের পর অনেকটা স্বস্তি ফিরলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, যাদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ ও বিক্রি হয় তাদের কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও কথিত মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, রানা ও রনি দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা রেলস্টেশনকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের অধীনে সেলসম্যান ও খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ ও বিক্রি করে থাকে বলে দাবি তাদের।

‎অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের অভিযানে সেলসম্যান ও খুচরা পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হলেও মূল ব্যবসায়ীরা কৌশলে আড়ালে থেকে যাচ্ছে। ফলে অভিযানের পরও ফতুল্লা রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকায় মাদক বেচাকেনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
‎‘অভিযানের পরও থেমে নেই কার্যক্রম’

‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুলিশের বড় ধরনের অভিযানের পর সাধারণত কিছু সময়ের জন্য মাদক বিক্রি কমে গেলেও পরবর্তীতে আবার আগের চিত্র ফিরে আসে। তাদের অভিযোগ, রানা ও রনির কথিত নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন কৌশলে মাদক সরবরাহ অব্যাহত রাখে।

‎তাদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী কয়েকজনের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও কথিত ‘সেল্টারে’ রানা ও রনি মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‎স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি রেলস্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হয়, তাহলে সেলসম্যান ও খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কথিত মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন দেখা যাচ্ছে না?

‎ফতুল্লা রেলস্টেশন একটি ব্যস্ত যাত্রীবাহী এলাকা হওয়ায় প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন স্থানে মাদক বেচাকেনার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। তাদের মতে, স্টেশন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চললে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ সহজেই মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।

‎স্থানীয়দের দাবি, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং অর্থের যোগানদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

‎পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় কথিত মূল মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী অভিযানে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন...


© 2022 Sangbadnarayanganj.com - All rights reserved
Design & Developed by POPULAR HOST BD