রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী কোটি কোটি টাকার ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে লতিফ মহাজনের ব্যবসা!

সংবাদ নারায়ণগঞ্জঃ- নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বুড়িগঙ্গা নদী তীরের বিআইডব্লিউটিএ’র ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে ও দখল করে -বালু,কয়লাসহ বিভিন্ন মালামাল রেখে ব্যবসা করছে মহাজন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির আবদুল লতিফ মহাজনসহ অনেক ব্যবসায়ী। সাধারন মানুষের হাটা-চলাচলের জন্য গড়া সেই সেই ওয়াকওয়েগুলো নেই বললেই চলে ফতুল্লা,দাপা,আলীগঞ্জসহ আশপাশ এলাকায়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দাপা মসজিদ সংলগ্ন পিছনে লতিফ মহাজনের ঘাট তৈরী মালিকপক্ষ নদীরপাড়ে গড়া ওয়াকওয়ে গুলো ভেঙ্গে এবং বুড়িগঙ্গা নদীর ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ৪০-৫০ফুট দখল করে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছে। বুড়িগঙ্গা নদীর ভেতরে প্রবেশ করে নিজেরাই একটি জাহাজ ভেড়ানোর জন্য জেটি নির্মান করেন এবং কয়েকটি ক্রেন বসিয়ে জাহাজ থেকে বিভিন্ন প্রকার মালামাল লোড-আনলোড করছে। এবং ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে সেখানে ট্রাকগুলেঅ সারিবদ্ধভাবে রেখেই বানিজ্যে করে চলেছেন। উক্তস্থানে বিআইডব্লিউটিএ কয়েকবার অভিযান চালালেও তার ২/১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরে পুনরায় আবার ব্যবসা চালু করেন সুবিধাবাদী লতিফ মহাজনরা।
এছাড়াও সকলের সুদৃষ্টি কামনায় সুচতুর লতিফ মহাজন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ইজারাকৃত তীর ভুমি নামে একটি সাইনবোর্ড সাটিয়ে রেখেছেন যেখানে তারিখ রয়েছে ১০/১১/১৬ইং।
স্থানীয়দের দাবী বিআইডব্লিউটিএ নদীর তীরবর্তীস্থানে দীর্ঘ মেয়াদী কোন ইজারা প্রদান করেন না। তাদের ইজারাগুলেঅ ১ বছরের জন্য হয়ে থাকে এর বেশী নয়। অথচ সুচতুর লতিফ মহাজন পুরোনো সেই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বছরের পর বছর যাবত নদীর তীরে সরকারের কোটি কোটি খরচ করে সাধারন মানুষের চলাচলের জন্য তৈরী করা ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে নিজের ইচ্ছেমত ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান,দাপা ও আশপাশ এলাকার কিছু পাতি নেতাদেরকে মাসিক মোটা অংকের মাসোহারা দিয়েই অবৈধভাবে ওয়াকওয়ে দখল করে ব্যবসা করছে লতিফ মহাজনরা। কেউ প্রতিবাদ করলে সেই পাতি নেতাদেরকে দিয়ে বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলে জানান অনেকে।
এছাড়াও গত ৩/৪ মাস পুর্বে রাজউকের একটি দল ফতুল্লা গরুর হাটের উল্টো পাশে বালুঘাটসহ আশপাশে অভিযান চালিয়ে তার জমিগুলো দখলমুক্ত করলেও কয়েকদিন না যেতেই দখলকারীরা আবারও সেস্থান দখল করে নিবিঘ্নে বালুসহ অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,উক্ত ব্যবসায়ী রাজউকের কাছে অনুমতি নিয়েছেন এমন একটি বিশাল আকৃতির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাদের কাছে জানতে চাইলে এক ব্যবসায়ী জানান,আমরা রাজউকের কাছ থেকে লিজ নিয়েছি কিন্তু তারা লিজের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অপরদিকে দাপা বালুঘাট এলাকার আশপাশে দাপা বাবুর ঘাট – হোসেন মিয়ার বালুর ঘাট ও রুপ চাঁন বেপারী এবং লতিফ বেপারী দাপা মসজিদ দাপা মসজিদ-মোল্লা সল্ট লবন কর্তৃপক্ষও নদীর পাশে গড়া ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে এবং নদীর ভেতরে প্রায় ৪০/৫০ ফুট প্রবেশ করে সেখানে ভরাট করে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। দাপা মসজিদ-মোল্লা সল্ট লবন কর্তৃপক্ষও ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে এবং নদীর ভেতরে প্রবেশ করে বালু ভরাটের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। মোল্লা সল্টের ম্যানেজারের দাবী তারা বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে লীজ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তিনি।
এ বিষয়ে লতিফ মহাজনের ব্যবহৃত মুঠোফোন ০১৭২৭০১০### নম্বরে ফোন করা হলে নিজেকে ম্যানেজার পরিচয়দানকারী বলেন,আমি তার নিতাইগঞ্জের ম্যানেজার। তার নম্বরটি চাইলে কোন উত্তর না দিয়ে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.গুলজার হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেনি।
এ বুড়িগঙ্গা নদী ও তীরবর্তী এলাকা বাচাঁতে এবং দখলকারীদের কাছ থেকে সুরক্ষা পেতে আবারও বিআইডব্লিউটিএ’র অভিযান জরুরী বলে জানান স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন...


© 2022 Sangbadnarayanganj.com - All rights reserved
Design & Developed by POPULAR HOST BD