সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

বড় ভাই আর ছোট ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে মাদক ব্যবসা

সংবাদ নারায়ণগঞ্জঃ- মাদক কুতুবপুরে একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুতুবপুরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে মাদকের সিন্ডিকেট। আর এর সবই হচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায়।

কুতুবপুরের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাদকে ছেয়ে গেছে সব এলাকা। মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের লোক পরিচয় দিয়ে নিশ্চিন্তে ব্যবসা করছেন। স্থানীয় অন্তত ২০/২৫ জন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের মূলে রয়েছেন লিমন, তার ছোট ভাই ইমরান এখানকার প্রভাবশালী এক রাজনীতিকের কাছের লোক। ফলে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এলাকাবাসী সংবাদ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমরা মুখ ফুটে কিছু বলতে পারি না, কিছু করতেও পারি না। কারণ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আছে সন্ত্রাসী।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও এলাকার লোকজন বলছেন, মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নোতারা ।
এলাকার অনেকে দুঃখ প্রকাশ করে সংবাদ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বিভিন্ন সভা-সেমিনারে রাজনৈতিক নেতারা মাদকের বিরুদ্ধে শপথ করান। আবার তাঁরা নিজেরাই মাদকের ব্যবসা করেন, মাদক সেবন করেন। পুলিশ এসব দেখেও চুপ থাকে।

তাহলে মাদকের বিস্তারের জন্য দায়ী কারা—এ প্রশ্নের জবাবে এলাকাবাসী বলেন, ‘অল্প পয়সায় বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে গডফাদাররা এসব করে।’ গডফাদার কারা, জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘সেটা আপনারা আমাদের থেকে ভালো জানেন ।

Orionনারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা বৌ বাজার এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই সচ্ছল জীবনযাপন করে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের লোক পরিচয় লিমন ও তার ভাই ইমরানের বাহিনীর মাদক ব্যবসার ছোবল নিয়ে চরমভাবে উদ্বিগ্ন এখানকার বাসিন্দারা। ‘ইয়াবা সিন্ডিকেটে’র হোতা তারা এলাকায়‘বড় ভাই’ নামে পরিচিত। তাদের আস্তানাগুলোতে চলে মাদক সেবন ও বিক্রি। অথচ পুলিশসহ প্রশাসন এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। আর তাদের দুই ভাইয়ের বাহিনীর মাদক ব্যবসা, জমি দখল, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং চাঁদাবাজিসহ সব অপরাধমূলক কাজের নেপথ্যে রয়েছেন।

একের পর এক অপরাধের পরও লিমন ও ইমরান বাহিনীর সদস্যদের পুলিশ গ্রেফতার না করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ। এলাকার যুবক, তরুণসহ নিজেদের সন্তানদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় দ্রুত তাদের বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগেও তার নানা অপকর্মের খবর একাধিক নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকাতে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। তারপরও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার ইশারায় সে প্রতিবার রেহাই পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সবাই সবকিছু জানার পরও থানা-পুলিশ কখনও এসব আস্তানায় অভিযান চালায়নি। বিষয়টিকে রহস্যময় বলছেন তারা। অন্যদিকে লিমন ও ইমরান বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায়, থানা-পুলিশ ও প্রশাসন তাদের খাতিরের জায়গা। আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।
এলাকাবাসী আরও বলছেন, ফতুল্লা থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকাই লিমন ও ইমরাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
তাই অতি তারাতারি তাদেরকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

 

নিউজটি শেয়ার করুন...


© 2022 Sangbadnarayanganj.com - All rights reserved
Design & Developed by POPULAR HOST BD