মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এস কে শাহীনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনতা। গার্মেন্টস কন্টাক্টর পলাশ হোসেন আকাশকে মারধর ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে হাজারো নারী-পুরুষ সড়কে নেমে এসে লিংকরোড অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় পলাশ হোসেন আকাশকে কৌশলে এস কে শাহীনের অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্মমভাবে মারধর করার পর অস্ত্র দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে আসে এবং সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচলে তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে শাহীন ও তার অনুসারীরা। বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি, গার্মেন্টস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই তাকে ভয়ভীতি, হামলা কিংবা মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এস কে শাহীন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর, খামার থেকে গরু নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া, জমি দখল, মাদক কারবার ও ছিনতাইকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ বহুদিনের। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রামারবাগ এলাকায় সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী রাহাদুল ইসলাম রবিনের ইন্টারনেট অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাতেও এস কে শাহীনের নাম উঠে আসে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফতুল্লার এক প্রবীণ বিএনপি নেতা বলেন,“বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, তাহলে তার দায় দল নেবে না। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে যারা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি কখনো সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতি সমর্থন করে না।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করে বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। এখন কিছু সুবিধাবাদী লোক দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সাধারণ নেতাকর্মীরাও বিব্রত।”
তবে এ বিষয়ে এস কে শাহীনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।